কানাইমাদারী গ্রামের নিঃস্বার্থ সেবক সুদীপ বড়ুয়া লাতু প্রয়াণ: অসহায় পরিবারের পাশে দাঁড়াতে প্রবাসীদের প্রতি গ্রামবাসীর মানবিক আবেদন
নিজস্ব প্রতিবেদক:
চট্টগ্রামের কানাইমাদারী গ্রামের প্রতিটি সামাজিক ও ধর্মীয় উৎসব থেকে শুরু করে যেকোনো মানুষের পারিবারিক বা ব্যক্তিগত বিপদের পরম বন্ধু, পরম শ্রদ্ধেয় ও নিঃস্বার্থ সমাজসেবক সুদীপ বড়ুয়া লাতু আর আমাদের মাঝে নেই। তার এই আকস্মিক বিদায় পুরো গ্রামকে এক গভীর শোক সাগরে ভাসিয়ে দিয়েছে।
চট্টগ্রামের কানাইমাদারী গ্রামের প্রতিটি সামাজিক ও ধর্মীয় উৎসব থেকে শুরু করে যেকোনো মানুষের পারিবারিক বা ব্যক্তিগত বিপদের পরম বন্ধু, পরম শ্রদ্ধেয় ও নিঃস্বার্থ সমাজসেবক সুদীপ বড়ুয়া লাতু আর আমাদের মাঝে নেই। তার এই আকস্মিক বিদায় পুরো গ্রামকে এক গভীর শোক সাগরে ভাসিয়ে দিয়েছে।
তিনি ছিলেন এমন একজন মানুষ, যিনি সারা জীবন নিজের স্বার্থের কথা না ভেবে পরোপকারে নিজেকে বিলিয়ে দিয়েছেন। গ্রামে কেউ মারা গেলে শেষকৃত্যের সমস্ত কাজ—রাত জেগে পাহারা দেওয়া, শ্মশানের চিতা সাজানো থেকে শুরু করে রোদ-বৃষ্টি মাথায় নিয়ে সমস্ত দাহক্রিয়া তিনি এক হাতে সামলাতেন। যেখানে বর্তমান যুগে অনেক গ্রামে দাহক্রিয়া সম্পন্ন করার জন্য পারিশ্রমিক বা টাকা দিতে হয়, সেখানে সুদীপ বড়ুয়া লাতু নিঃস্বার্থ শ্রমের কারণে আজ পর্যন্ত কানাইমাদারী গ্রামে এমন কোনো নজির তৈরি হয়নি। সাধারণত আনন্দ বা বিয়ের উৎসবে মানুষের অভাব হয় না, কিন্তু মানুষের চরম বিপদের মুহূর্তেই লাতু বড়ুয়া সবার আগে কায়িক শ্রম ও সমবেদনা নিয়ে হাজির হতেন। কানাইমাদারী গ্রামের একটি মানুষও বলতে পারবেন না যে, তাকে ছাড়া গ্রামের কোনো কাজ সম্পন্ন হয়েছে।
জীবদ্দশায় গ্রামের মানুষকে ছায়া দিলেও, তার অবর্তমানে আজ তার নিজের পরিবারই চরম অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে। মৃত লাতু বড়ুয়া স্ত্রীসহ ৩ মেয়ে ও ১ ছেলে রেখে গেছেন। তার বড় মেয়ের বিয়ে হলেও বাকি সন্তানেরা এখনও পুরোপুরি নির্ভরশীল। মেঝ মেয়ে এবার এইচএসসি পরীক্ষা দিয়েছে, ছোট মেয়ে ষষ্ঠ শ্রেণীতে এবং সবকনিষ্ঠ ছেলে সূর্য মাত্র দ্বিতীয় শ্রেণীতে পড়ছে। পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম মানুষকে হারিয়ে নাবালক সন্তানদের পড়াশোনা ও টিকে থাকার লড়াই এখন প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়েছে।
লাতু বড়ুয়া আজীবন কানাইমাদারী গ্রামকে ভালোবেসে গেছেন। তাই এই কঠিন সময়ে তার পরিবারের দায়িত্ব নেওয়া পুরো গ্রামবাসীর নৈতিক কর্তব্য। আমরা যদি আজ তার অসহায় পরিবারের পাশে স্থায়ীভাবে না দাঁড়াই, তবে পুরো কানাইমাদারী গ্রামবাসী এই মহান মানুষটির কাছে চিরকাল অকৃতজ্ঞ ও অপরাধী হয়ে থাকবে।
লাতু বড়ুয়া অসুস্থতার সময় গ্রামের মানুষ ও প্রবাসীরা যেভাবে সহযোগিতার হাত বাড়িয়েছিলেন, তা অত্যন্ত প্রশংসনীয়। বর্তমান পরিস্থিতিতে কাকার সন্তানদের ভবিষ্যৎ ও পরিবারের পুনর্বাসনের জন্য একটি স্থায়ী তহবিল বা দীর্ঘমেয়াদী ব্যবস্থা করা অত্যন্ত জরুরি। তাই কানাইমাদারী গ্রামের দেশ ও বিদেশে অবস্থানরত সকল বিত্তবান, সামর্থ্যবান ব্যক্তি এবং সম্মানিত প্রবাসীদের প্রতি বিনীত অনুরোধ—আসুন, আমরা সবাই মিলে আমাদের সাধ্যমতো সার্বিক সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিই। আপনার একটি ছোট অবদান লাতু বড়ুয়ার সন্তানদের মুখে হাসি ফোটাতে এবং তাদের ভবিষ্যৎ সুরক্ষিত করতে পারে।
(সহযোগিতা পাঠাতে বা পরিবারের পাশে দাঁড়াতে দায়িত্বশীলদের সাথে যোগাযোগের অনুরোধ করা হলো।)
অর্থিক সহায়তার জন্য যোগাযোগ :--- +8801852421804
+8801815605726