সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬
ব্রেকিং নিউজ
সর্বশেষ সংবাদ জানতে BANGLA NEWS DESK -এর সঙ্গে থাকুন। যে কোনো গুরুত্বপূর্ণ তথ্যের জন্য চোখ রাখুন আমাদের পোর্টালে।
আন্তর্জাতিক

বিক্ষোভে উত্তাল দিল্লি, নির্বাচন কমিশনারের পদত্যাগের দাবিতে ধড়পাকড়: আটক দেড় সহস্রাধিক

October 10, 2026
বিক্ষোভে উত্তাল দিল্লি, নির্বাচন কমিশনারের পদত্যাগের দাবিতে ধড়পাকড়: আটক দেড় সহস্রাধিক

 বিক্ষোভে উত্তাল দিল্লি, নির্বাচন কমিশনারের পদত্যাগের দাবিতে ধড়পাকড়: আটক দেড় সহস্রাধিক




আন্তর্জাতিক ডেস্ক:
ভারতের প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে ডাকা কর্মসূচীকে কেন্দ্র করে বিক্ষোভে উত্তাল হয়ে উঠেছে রাজধানী দিল্লি। শনিবার (১০ অক্টোবর) দিল্লির যন্তর মন্তরে রাজনৈতিক দল 'ককরোচ জনতা পার্টি' (সিজেপি) এবং বেশ কয়েকটি বামপন্থী সংগঠনের এই বিক্ষোভ কর্মসূচীকে কেন্দ্র করে বড় ধরনের অভিযান চালায় পুলিশ। দিনভর চলা এই ব্যাপক ধড়পাকড়ে দেড় হাজারেরও বেশি আন্দোলনকারীকে আটক করা হয়েছে। 
ভিআইপি ও শীর্ষ নেতাদের আটক
বিক্ষোভের মূল কেন্দ্র যন্তর মন্তরে পৌঁছানোর আগেই ব্যাপক ধরপাকড়ের শিকার হন সিজেপির প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দিপকে, সহ-আহ্বায়ক আশুতোষ রাঙ্কা ও সৌরভ দাস। বিমানবন্দর থেকে নামার পরপরই পুলিশ তাদের হেফাজতে নেয়। এছাড়া গুরুগ্রামের বাসভবন থেকে আটক করা হয় ভারতের জনপ্রিয় ইউটিউবার ধ্রুব রাঠীকে।
আন্দোলনের সমর্থনে নামার পর একে একে আটক হন দিল্লির সাবেক মুখ্যমন্ত্রী অরবিন্দ কেজরিওয়াল, পশ্চিমবঙ্গের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, কেরালার সাবেক মুখ্যমন্ত্রী পিনারাই বিজয়ন, সিপিআইএমের সাধারণ সম্পাদক এম এ বেবি, বৃন্দা কারাত এবং সমাজকর্মী যোগেন্দ্র যাদব ও প্রশান্ত ভূষণসহ আরও একাধিক শীর্ষ স্থানীয় নেতা।
নিরাপত্তার চাদরে দিল্লি, সংঘর্ষ ও পাথর নিক্ষেপ
বিক্ষোভ দমন করতে নয়াদিল্লি জুড়ে নজিরবিহীন নিরাপত্তাব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়। রাজধানীজুড়ে প্রায় ১৫ হাজার দিল্লি পুলিশ এবং ২৬ হাজার আধাসামরিক বাহিনীর সদস্য মোতায়েন করা হয়েছিল। বিক্ষোভকারীরা যন্তর মন্তর ও কনট প্লেসের দিকে যাওয়ার চেষ্টা করলে পুলিশের সঙ্গে ধস্তাধস্তি ও ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া হয়। কনট প্লেসের বাবা খড়ক সিং মার্গে আটককৃতদের বহনকারী বাস লক্ষ্য করে পাথর নিক্ষেপের ঘটনাও ঘটে, যাতে 'পিঙ্ক ফোর্স' এর একজনসহ অন্তত দুই পুলিশ সদস্য আহত হন। 
যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন ও স্তব্ধ পরিবহন
বিক্ষোভ রুখতে প্রশাসনের নির্দেশে দিল্লির অন্তত ৪৫টি মেট্রো স্টেশন আংশিক বা সম্পূর্ণ বন্ধ করে দেওয়া হয়। একই সঙ্গে দিল্লিগামী ও লোকাল মিলিয়ে প্রায় ২৫০টিরও বেশি ট্রেনের সূচি বাতিল করা হয়। এছাড়া সেন্ট্রাল দিল্লির স্পর্শকাতর এলাকাগুলোতে মোবাইল ইন্টারনেট পরিষেবাও সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে। 
বিক্ষোভের কারণ
আন্দোলনকারী দলগুলোর অভিযোগ, ভারতের বর্তমান ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর) প্রক্রিয়ায় ব্যাপক অনিয়ম করা হয়েছে। অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের স্বার্থে তারা এই এসআইআর প্রক্রিয়া বাতিল এবং প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের অবিলম্বে পদত্যাগের দাবি জানাচ্ছেন। 
পুলিশের এই কঠোর দমন-পীড়নের তীব্র সমালোচনা করেছেন কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গে। তিনি অভিযোগ করে বলেন, মোদী সরকার ভারতকে 'বাকরুদ্ধ গণতন্ত্রে' পরিণত করেছে। তবে পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখতে এবং বেআইনি জমায়েত রুখতেই এই প্রতিরোধমূলক পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে